
E20 জ্বালানি নীতি নিয়ে সরকারের হঠকারী সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা, স্বচ্ছ প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন এবং সাধারণ মানুষের মতামত গ্রহণ না করেই E20 (২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল) কার্যত বাধ্যতামূলকভাবে চালু করেছে। এর ফলে দেশের লক্ষ লক্ষ মোটরসাইকেল ও চারচাকা গাড়ির ব্যবহারকারী, বিশেষত কর্মসংস্থান, শিক্ষা এবং জীবিকার জন্য প্রতিদিন যানবাহনের উপর নির্ভরশীল যুবসমাজ নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
উদ্বেগের বিষয়, এখনও দেশের রাস্তায় বিপুল সংখ্যক Non-E20 উপযোগী বা পুরনো যানবাহন চলাচল করছে। E20 জ্বালানি ব্যবহারের ফলে এই ধরনের যানবাহনের ক্ষেত্রে ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা, জ্বালানি দক্ষতা, বিভিন্ন যন্ত্রাংশের স্থায়িত্ব এবং রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় নিয়ে গাড়ির মালিকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ ইতিমধ্যেই বাড়তি খরচ, অনিশ্চয়তা এবং ভোগান্তির আশঙ্কার মুখোমুখি হয়েছেন। বিশেষ করে গিগ অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত যুবক-যুবতী—যাঁরা বিভিন্ন অনলাইন সংস্থায় গাড়ি চালক হিসেবে বা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ডেলিভারি কর্মী হিসেবে প্রতিদিন নিজেদের মোটরসাইকেল বা গাড়ি ব্যবহার করে জীবিকা নির্বাহ করেন—তাঁদের উপর এই সিদ্ধান্তের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে।
আমরা আরও লক্ষ্য করছি যে, E20 নীতি কার্যকর করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তুলনায় কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়করি অনেক বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, E20 নীতি চালু হওয়ার পর তাঁর দুই ছেলে নিখিল গড়করি ও সারং গড়করি-র সঙ্গে যুক্ত CIAN Agro Industries & Infrastructure Ltd. এবং Manas Agro Industries & Infrastructure Ltd.-এর ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য ব্যবসায়িক মুনাফার ও আর্থিক লাভের তথ্য সামনে আসছে। এই সমস্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। E20 নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে কারা যুক্ত ছিলেন, কোন কোন সংস্থা এর প্রত্যক্ষ আর্থিক সুবিধা পেয়েছে এবং কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সঙ্গে সরকারের নীতিনির্ধারণের যোগসাজশ ছিল কি না—তা প্রকাশ্যে আনতে হবে। জনগণের উপর আর্থিক বোঝা চাপিয়ে কোনও কর্পোরেট বা ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মেনে নেওয়া যায় না।
অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়, সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে E20 নীতি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। যদি তা-ই হয়ে থাকে, তাহলে দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষকে কোনও পূর্বসম্মতি ছাড়াই এই পরীক্ষার অংশ করে তোলার নৈতিক ও প্রশাসনিক ভিত্তি কী—এই প্রশ্নের উত্তর সরকারকে দিতে হবে। কোনও সরকারের পরীক্ষানিরীক্ষার বোঝা সাধারণ মানুষের উপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না। E20 ব্যাবহারে পরিবেশ দূষণের মাত্রা কমবে এমন কোনও নিশ্চয়তা কোনও সমীক্ষা তেই পাওয়া যায় নি। বরং কিছু ভারসাম্যগত সমস্যা বাড়তে পারে বলেই অনুমান সমীক্ষক দের।
আমরা দাবি জানাচ্ছি যে, E20 সংক্রান্ত সমস্ত বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা, প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন এবং পরীক্ষার ফলাফল অবিলম্বে সর্বসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই নীতি কার্যত বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখতে হবে এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এই বিষয়ে আমাদের সংগঠন রাজ্যজুড়ে যুবসমাজের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার সংগঠিত করবে। পাশাপাশি, সরকার যদি এই হঠকারী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করে এবং মানুষের ন্যায্য উদ্বেগকে উপেক্ষা করে, তাহলে ভবিষ্যতে বৃহত্তর আন্দোলন সংগঠিত হবে। জনস্বার্থবিরোধী এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গণমত গড়ে তোলার জন্য সকল গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তি এবং সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।
অভিনন্দন সহ
অয়নাংশু সরকার
সভাপতি
DYFI
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি
ধ্রুবজ্যোতি সাহা
সম্পাদক
DYFI
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি